
মোঃ রাসেল সরকার:
সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে তাদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের নীতিমালা থাকা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব বলেন, কোনো সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের মালিকের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে, তবে স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সরকার কিংবা জনগণের নয়; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদমাধ্যমে অসত্য তথ্যের বিস্তার রোধে প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিজস্ব উদ্যোগে নিয়মতান্ত্রিক তথ্য যাচাইয়ের (ফ্যাক্ট-চেকিং) ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
গুজব ও অপপ্রচার রুখতে তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর ভুল তথ্য থেকে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বিগত দিনের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বর্তমান সরকার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক ও নৈতিক নিরাপত্তা নেই। অনেক সাংবাদিককে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের একটি আইনি ভিত্তি ও কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা বাড়বে এবং দেশবাসী আরও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা পাবে।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য ডেডিকেটেড স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সাংবাদিকদের জন্য তেমন কোনো বিশেষ সুবিধা নেই। সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকার করা হলেও সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। তিনি অবিলম্বে এই বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য পেশার মানুষের মতো সাংবাদিকদেরও কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। সাংবাদিকদের জন্যও সপ্তাহে দুই দিনের ছুটির ব্যবস্থা করা জরুরি, যা তাদের মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক জীবন বজায় রাখতে এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ ও সুমন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।