
মোঃ রাসেল সরকার:
নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকার আলোচিত নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা মিরাজ এবং তার পরিবারকে ঘিরে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তাদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরাজের বাবার নাম আলমগীর এবং তাদের মূল গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা এলাকায় বসবাস করে আসছে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, পাগলা এলাকায় এই পরিবারের নিজস্ব দুটি বাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে একটি চারতলা ভবন। মিরাজ ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য এবং তার চাচার পরিবারের লোকজনও সরাসরি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান মিরাজ ও তার পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তারা ঢাকার জুরাইন এলাকার 'চেয়ারম্যান বাড়ি' নামক স্থানে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
মিরাজের সন্দেহ জনক কর্মকাণ্ড ও সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,
তিনি অতীতে নিষিদ্ধ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে পিকেটিং, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মাওয়া এলাকায় প্রায় ৪০টি হায়েস গাড়ি ও একটি বাস নিয়ে একটি কথিত ঝটিকা মিছিলেও মিরাজের সম্পৃক্ততা ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক অবস্থায় মিরাজকে আটকের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক কার্ড পাওয়ার কথা এবং তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রভাবশালী মহলের ফোন আসার গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া, মিরাজের এক মামা উত্তরা এলাকায় বসবাস করেন এবং অতীতে তার পায়ে গুলি লাগার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। কেউ কেউ মিরাজকে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও দাবি করে আসছেন।
৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে মিরাজের বর্তমান অবস্থান, তার রাজনৈতিক পরিচয় এবং তার বিরুদ্ধে আনীত নানা অভিযোগের বিষয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানা এলাকাবাসী।