মোঃ রাসেল সরকার:
সম্প্রতি যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন-এর একটি স্লোগানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও একটি গুপ্ত দলের কর্মীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার দেওয়া ওই স্লোগানের ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে রবিউল ইসলাম নয়ন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে যুবদল নেতা স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি মূলত ধর্মীয় প্রতীক বা লেবাসের বিরুদ্ধে কোনো স্লোগান দেননি। তাঁর স্লোগানটি ছিল বাহ্যিক ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে কুকর্মে লিপ্ত থাকা সুবিধাবাদী ও ভণ্ড চক্রের বিরুদ্ধে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজে নৈতিক স্খলন ও কেলেঙ্কারির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বাহ্যিক ধর্মীয় লেবাস, দাড়ি ও টুপিধারী কিছু ব্যক্তির অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, যারা দাড়ি রেখে এবং মাথায় টুপি পরে রাজনীতির মঞ্চে মিথ্যাচার করে, বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক কাজে জড়ায়—তিনি মূলত তাদের বিরুদ্ধেই স্লোগান দিয়েছেন। রবিউল ইসলাম নয়ন পেট ও পকেট পূজারী, দুনিয়ালোভী এবং বিকৃত দ্বীনের অনুসারী নামধারী লেবাসধারীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে এই চক্রটি সাধারণ মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করছে। সাধারণ মুসলিমরা না বুঝে ইসলামের মোড়কে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর আমল ও তরীকা গ্রহণ করলে তার দায়ভার এই লেবাসধারী ধর্ম ব্যবসায়ীদেরকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে রবিউল ইসলাম নয়ন তার ফেসবুক পোস্টে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো নিকৃষ্ট রীতি চালু করল, অতঃপর তার অবর্তমানে সেটার উপরে আমল করা হ’ল, তাহলে তার জন্য আমলকারীর সমান গোনাহ লেখা হবে, অথচ আমলকারীর গোনাহ সামান্যতম কম করা হবে না।’
[সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০১৭; সুনান আন-নাসাঈ, হাদিস নং ২৫৫৪; মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ২১০]
বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে কোনো নেতার বক্তব্য বা স্লোগানকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা সাইবার অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। ধর্মীয় প্রতীক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং ঘৃণা ছড়ানোর অপচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ক্ষতিকর। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন কিংবা সংশ্লিষ্ট সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপপ্রচার ও ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।